করোনাভাইরাস নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হবেন না বললেন মুখ্যমন্ত্রী

স্বর্ণালী গোস্বামী

শুক্রবার নবান্নে বৈঠক ডেকে রাজ্যবাসীকে আশ্বস্ত করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে যাদের ভর্তি করা হয়েছে, তাদের কারও শরীরে করোনা ভাইরাস পজিটিভ পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী জানান, সব ভাইরাসই করোনা নয়, সব সর্দি, কাশি, জ্বর-ই করোনা নয়। তিনি রাজ্যবাসীকে আতঙ্কিত না হতে বলেছেন।
করোনা নিয়ে যে গুজবের সৃষ্টি হয়েছে, তার ফলে সাধারণ মানুষ যাতে বিভ্রান্ত না হয়ে যান, সেই কারণে রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতর এই ভাইরাসের বিষয়ে যাবতীয় তথ্য দিয়েছে। এছাড়াও শুক্রবার সাংবাদিক সম্মেলন করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান,
১) ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ, এনআরএস, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ, হাওড়া জেলা হাসপাতাল, আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতাল, সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজ, আরামবাগ ও কাকদ্বীপ মহকুমা হাসপাতাল, ডায়মন্ডহারবার হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ড রাখা হয়েছে। ২) প্রতিটি জেলায় অ্যাডভাইজারি পাঠানো হয়েছে। জরুরি অবস্থার জন্য তৈরী আছে কুইক রেসপন্স টিম। ৩) রাজ্যের সীমান্ত এলাকাগুলিতে বিশেষ নজরদারির দল পাঠানো হয়েছে। জয়গাঁ, বনগাঁ, রাধিকাপুর, চ্যাংড়াবান্ধায় স্ক্রিনিং চলছে। সীমান্ত এলাকাগুলিতে স্ক্রিনিং সেট-আপ গড়ে তোলার ব্যবস্থাও চলছে। ৩) যাঁরা বিমানে আসছেন, তাঁদের দিকেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। অন্তর্দেশীয় উড়ানে বিশেষ চেকিং-এর ব্যবস্থা করা হবে। চিন, জাপান, সিঙ্গাপুর, তাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া সহ ১৯টি দেশ থেকে আসা ১৫০১ জন পর্যটকের বিশেষ স্ক্রিনিং করা হয়েছে। আইসোলেশন ওয়ার্ডে ২৩৪ জনকে ভর্তি করা হয়েছিল, এখন সেখানে মাত্র দু’জন রয়েছে। কারও শরীরেই সংক্ৰমণ ধরা পড়েনি। ৪) বিভিন্ন রেলস্টেশন, নদীবন্দর, বিমানবন্দরে এবং চেকপোস্টে বিশেষ চেকিং চলছে। গোটা রাজ্যে ৮ লক্ষ ৪২ হাজার ১০০টি স্ক্রিনিং হয়েছে। কারও শরীরে কোরোনাভাইরাস ধরা পড়েনি। ৫)আপৎকালীন অবস্থার জন্য রাজ্য সরকারের তরফে চালু করা হয়েছে বিশেষ হেল্প লাইন নম্বর। ০৩৩২৩৪১২৬০০। এই হেল্পলাইন নম্বর ২৪ ঘন্টা খোলা থাকবে। এছাড়াও ‘করোনা কল সেন্টার’ নামে আর একটি টোল ফ্রি নম্বর রাখা হয়েছে। ১৮০০৩১৩৪৪৪২২২। ৬) জেলা হাসপাতালগুলিতে চিফ মেডিক্যাল অফিসারের অধীনে কাজ করবেন অভিজ্ঞ ডাক্তাররা। ভাইরাস সংক্রমণের মোকাবিলা করতে প্রতিটি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও সরঞ্জাম রাখার ব্যবস্থা হয়েছে। ৭) আরও ওষুধ ও মাস্ক পাঠানোর জন্য কেন্দ্রের কাছে আবেদন করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই সময় ওষুধ ও মাস্কের দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কালোবাজারি বন্ধ করতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মাস্ক নিয়ে কালোবাজারি হলে সব বাজেয়াপ্ত করে নেওয়া হবে বলে মানুষকে হুঁশিয়ার করে দেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, মাস্কের বিকল্প হিসেবে শাড়ির আঁচল দিয়ে বা ওই জাতীয় কাপড় দিয়ে নিজেরাই মাস্ক তৈরী করে নেওয়া যায়। আগে তো তাই করা হত। ‘ওল্ড ইজ গোল্ড’। তিনি সংক্ৰমণ রুখতে বেশ কিছু সাবধানতা অবলম্বন করার কথাও বলেন। তিনি জানান, ‘জ্বর হলে ১৪ দিন বিশ্রাম নিন। প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। হাঁচি-কাশির সময় সকলে রুমাল ব্যবহার করুন, প্রতি ঘন্টায় হাত ধুয়ে ফেলুন, রাস্তায় থুতু ফেলবেন না, নোংরা থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখুন। শুধু নিজেকে নয়, বাড়ির সকলকে সুস্থ রাখার চেষ্টা করুন’।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s