নয়া জাতীয় শিক্ষানীতি নিয়ে ভার্চুয়াল বৈঠক হল প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি, রাজ্যপাল, শিক্ষামন্ত্রী, উপাচার্যদের মধ্যে

সোমবার জাতীয় শিক্ষানীতি নিয়ে রাজ্যপাল, উপাচার্যদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানালেন, শিক্ষানীতিতে সরকারের হস্তক্ষেপ যতটা সম্ভব কম হওয়া উচিত৷ এ দিন প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল বৈঠকে যোগ দেন বিভিন্ন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা৷

       এদিন মোদি তাঁর ভাষণে বলেন, ‘আমরা ভারতকে জ্ঞান অর্থনীতি পরিণত করার কাজ করছি৷ জাতীয় শিক্ষানীতির ফলে বিশ্বের সেরা আন্তর্জাতিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির ক্যাম্পাস খোলা যাবে ভারতে৷ যত শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবকরা এই নীতির সঙ্গে যুক্ত হবেন, ততই এর গুরুত্ব সম্পর্কে সবাই আরও অবগত হবেন৷’ তিনি আরও বলেন, ‘দেশের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য শিক্ষানীতি ও শিক্ষা ব্যবস্থা জরুরি৷ কেন্দ্র, স্থানীয় প্রশাসন-সহ সবাই শিক্ষা ব্যবস্থার দায়িত্বে রয়েছে৷ কিন্তু এটাও ঠিক, শিক্ষানীতিতে সরকারের নাক গলানো বা বেশি পরিমাণে হস্তক্ষেপ উচিত নয়৷ বিদেশ নীতি, প্রতিরক্ষা নীতি যেমন দেশের, সরকারের নয়, তেমনই শিক্ষানীতিও দেশের জন্যই৷ সবাই এর দায়িত্বে৷ তাই এই নীতি কার্যকর করার জন্য সকলের একসঙ্গে দায়িত্ব নেওয়া উচিত৷’ তিনি জানান, জাতীয় শিক্ষানীতি তৈরি করা হয়েছে শেখার জন্য৷ শুধু পড়ার জন্য নয়৷ পড়ুয়াদের চিন্তাশক্তি বাড়াতে জোর দেওয়া হয়েছে, প্যাসন, প্র্যাক্টিক্যালিটি ও পারফর্ম্যান্সের উপরে৷ এর ফলে ভারত একুশ শতকে জ্ঞান অর্থনীতিতে পরিণত হবে৷

           এদিকে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় এদিন জানান, করোনা পরিস্থিতি তো রয়েছেই, সেইসঙ্গে কেন্দ্রের একতরফা সিদ্ধান্তে শিক্ষানীতির ক্ষেত্রে রাজ্যের স্বার্থও ক্ষুন্ন হয়েছে। তাই এখনই বাংলায় নতুন শিক্ষানীতি প্রণয়ণ করা সম্ভব না। সোমবার সেই জাতীয় শিক্ষানীতি নিয়েই সব রাজ্যের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে বসেছিলেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দও। সেখানেই মিনিট চারেকের বক্তব্য রাখেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী। সেখানে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘শিক্ষানীতির নামে রাজ্যের ভূমিকা কেন খর্ব করা হচ্ছে?’ কেন্দ্রের নয়া শিক্ষানীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরে ভরতির বিষয়টি, এম ফিল তুলে দেওয়া-সহ একগুচ্ছ অভিযোগ রয়েছে বাংলার। কেন্দ্রীয় সরকারকে সমস্ত অভিযোগ লিখিত আকারে রাজ্য সরকারের তরফে দ্রুত পাঠানো হবে বলেও জানিয়ে দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।

          উল্লেখ্য, ইতিমধ্যে ছয় সদস্যর কমিটি গঠন করেছে শিক্ষা দফতর। সেই কমিটিতে রয়েছেন যাদবপুর ও রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সুরঞ্জন দাস ও সব্যসাচী বসু রায়চৌধুরী, শিক্ষাবিদ পবিত্র সরকার ও নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ি, তৃণমূল সাংসদ তথা পদার্থবিদ্যার অধ্যাপক সৌগত রায় এবং স্কুলশিক্ষা পাঠ্যক্রম কমিটির চেয়ারম্যান অভীক মজুমদার। পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষার যে গৌরব তা রাখতে বদ্ধপরিকর রাজ্য এমনটাই আজ জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s