সোমবার প্রকাশিত হল এ বছরের পুজোর গাইডলাইন

সোমবার আনুষ্ঠানিক ভাবে এ বছরের দুর্গা পুজোর গাইডলাইন প্রকাশ করল রাজ্য সরকার৷ সব রকম নিয়ম মেনে, সামাজিক বিধি পালন করে, করোনা-সতর্কতার সঙ্গে যাতে মানুষ উৎসবে সামিল হতে পারে, সেই দিকে নজর রেখেই এই বিশেষ গাইডলাইন।

  • এবার দুর্গাপুজোর প্যান্ডেল খোলামেলা করতে হবে। প্যান্ডেলের ভেতরে যথেষ্ট জায়গা থাকতে হবে, যাতে দর্শকরা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে পারেন। ঢোকার ও বেরোনোর গেট আলাদা রাখতে হবে।
  • মাস্ক পরেই প্যান্ডেলে আসতে হবে দর্শকদের। যদি কেউ না আসেন, সে জন্য প্যান্ডেল কর্তৃপক্ষকে মাস্কের ব্যবস্থাও রাখতে হবে। রাখতে হবে পর্যাপ্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজার। পাশাপাশি মণ্ডপ এবং তার আশপাশের এলাকায় স্যানিটাইজার রাখতে হবে।
  • পর্যাপ্ত সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন রাখতে হবে প্যান্ডেলে। তাঁদের মাস্ক, স্যানিটাইজার বাধ্যতামূলক। ভিড় হলে বা কেউ কোনও নিয়ম না মানলে তাঁরা সামাল দেবেন। অঞ্জলি দেওয়া, প্রসাদ বিতরণ, সিঁদুর খেলা– এসব অনুষ্ঠান পরিকল্পিত ভাবে ছোট ছোট ভাগে করতে হবে। অঞ্জলির ফুল বাড়ি থেকে আনতে হবে। পুরোহিতকে মাইকে মন্ত্রোচ্চারণ করতে হবে।
  • পুজো মণ্ডপ চত্বর বা তার ধারেকাছে কোনও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা যাবে না।
  • পুজোর পুরস্কার দেওয়ার জন্য আসা বিপুল সংখ্যক বিচারককে এবার আর পুজো মণ্ডপে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। বড়জোর দুটো গাড়ির অনুমোদন মিলবে, তাও সকাল ১০টা থেকে দুপুর ৩টের মধ্যে। বেশিরভাগ খুঁটিয়ে দেখার কাজ ভার্চুয়ালি করতে হবে।
  • সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য বৈদ্যুতিন মাধ্যম এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচার চালাবে প্রশাসন এবং পুজো কমিটিগুলি, যাতে ভিড় এড়ানো যায়। তার সঙ্গে সঙ্গে নিয়ম-নীতিরও প্রচার চালাতে হবে প্রতিটি পুজো কমিটিকে।
  • পুজোর উদ্বোধন এবং বিসর্জন যতটা সম্ভব ছোট করে করতে হবে। ভার্চুয়াল উদ্বোধনের উপরে বিশেষ জোর দিতে হবে। বিসর্জনের জন্য কোন ঘাটে কখন কোন পুজোর বিসর্জন তা আগাম পরিকল্পনা করতে হবে প্রশাসনের সঙ্গে। পুজো কমিটিগুলিকে যে সময় বেঁধে দেওয়া হবে, তার মধ্যে গিয়ে নির্দিষ্ট ঘাটে প্রতিমা বিসর্জন দিতে হবে৷ বিসর্জন দিতে যাওয়ার সময় প্রতিমা নিয়ে শোভাযাত্রা বা কোথাও থামা চলবে না৷ বিসর্জনের ঘাটগুলিকেও স্যানিটাইজ করা হবে৷
  • পুজোর প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন এবং তৎসংলগ্ন সমস্ত অনুমোদন অনলাইনে করতে হবে। সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ সেই ব্যবস্থা করবে।
  • এবার তৃতীয়া থেকেই যাতে লোকজন প্রতিমা দর্শন করতে পারেন সেই বিষয়ে পদক্ষেপ করতে হবে পুজো কমিটিগুলিকে। ভিড় এড়ানোর জন্য আরও বেশি দিন ধরে খোলা রাখা যেতে পারে প্যান্ডেল।
  • করোনা অতিমারির কথা মাথায় রেখে এবার দুর্গা পুজোর কোনও কার্নিভাল হবে না৷ একই ভাবে কোনও পুজো মণ্ডপ চত্বরে মেলা বা ওই ধরনের কোনও আয়োজন করা যাবে না৷
  • সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার সমস্ত নীতি ও নির্দেশ মেনে চলতে হবে পুজো কমিটিগুলিকে এবং দর্শকদেরও। এর পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী পুজো কমিটিগুলিকে ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া, বিদ্যুতের মাশুলে ৫০ শতাংশ ছাড়, দমকল, পুরসভা, পঞ্চায়েতের কর মকুবের কথাও গাইডলাইনে বলা হয়েছে৷

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s