রানী রাসমণি নির্মিত ‘অন্তর্জলী ভবনে’র মালিকানা নিয়েই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে

রানী রাসমণি নির্মিত ‘অন্তর্জলী ভবনে’র ভগ্নদশা তা অনেকদিন ধরেই সর্বজনবিদিত। এবারে আরও ধোঁয়াশা তৈরী হল। রটনা রটেছে কে বা কারা ভবনটি নাকি বিক্রি করে দিয়েছে। কার কাছে বিক্রি হয়েছে, তারও কোনও হদিশ নেই। এদিকে গ্রেড-১ ওই হেরিটেজ বিল্ডিংটির ভগ্নদশা দেখে আদৌ ঠাহর করা যায়না সেটি হেরিটেজ তকমা পেয়েছে বলে। পরিস্থিতি দেখে ‘পুরনো কলকাতার গল্প’ গ্রুপের তরফে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ইতিমধ্যেই রাজ্য হেরিটেজ কমিশনের সঙ্গে কথা বলেছেন গ্রুপের সদস্যরা। কলকাতা পুরসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ডের নিমতলা ঘাট সংলগ্ন এলাকাতেই রয়েছে এই অন্তর্জলী ভবন। রানী রাসমণির স্বামী রাজচন্দ্র দাস এই ভবন নির্মাণ করেন। ভবনটির বয়স প্রায় ২০০ বছর। বর্তমানে ভেঙেচুরে কোনওরকমে দাঁড়িয়ে রয়েছে ইতিহাসের সাক্ষী থাকা ওই ভবন।
হিন্দু সংস্কার অনুযায়ী মৃত্যু পথ যাত্রী কোন ব্যক্তিকে রেখে চলে যাওয়া হত গঙ্গার ঘাটে। গঙ্গাপ্রাপ্তি না ঘটা পর্যন্ত তাঁকে এবং তাঁর বাড়ির লোকজনদের অপেক্ষা করতে হত গঙ্গাতীরে। মানুষের বিশ্বাস ছিল, এতেই পূণ্যপ্রাপ্তি হবে ওই মৃত্যুপথযাত্রীর। কলকাতা এবং তার আশেপাশের ঘাটগুলো সংলগ্ন তখন কোন ঘর ছিল না। মৃত্যুকালে কেউ মাথার ওপর ছাদটুকুও পেতেন না। সেই কথা মাথায় রেখে মৃত্যুপথযাত্রী অপেক্ষমান মানুষদের জন্যেই তৈরি করা হয়েছিল এই অন্তর্জলী ভবন। উদ্যোগ নিয়েছিলেন রাণী রাসমণি স্বয়ং। জানবাজারের রাজচন্দ্র দাস তাঁর স্ত্রী রানী রাসমণির অনুরোধে কলকাতায় তৈরি করেন নতুন একটি ঘাট, সেইসঙ্গে একটি পাকা ঘর। সেই ঘাটই আজ ‘বাবুঘাট’ নামে পরিচিত। আর নিমতলা ঘাট সংলগ্ন সেই বাড়ি আজ গ্রেড ওয়ান হেরিটেজ বিল্ডিং।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s