জোড়া বনধ-এ জেরবার রাজ্য

আজ জোড়া বনধে বাংলার সাধারণ মানুষের জেরবার অবস্থা। কৃষক বনধের সমর্থনে এদিন রাজ্যের একাধিক জায়গায় রেল অবরোধ করেন বাম সমর্থকরা। এই বনধকে সমর্থন করেছে বাম, কংগ্রেস, টিআরএস, আরজেডির মতো দলগুলি। কৃষকদের দাবিদাওয়াকে সমর্থন করছে তৃণমূলও। অন্যদিকে শিলিগুড়িতে উত্তরকন্যা অভিযানে সংঘর্ষে সোমবার এক বিজেপি কর্মীর মৃত্যু হওয়ায় বিজেপির তরফ থেকে উত্তরবঙ্গ বনধ ডাকা হয়েছে। লেকটাউন, মধ্যমগ্রামের দোলতলা মোড়ে. চৌমাথা মোড়ে, যশোর রোডে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান বামকর্মীরা। জায়গায় জায়গায় স্তব্ধ হল রেল পরিষেবা। চোখে পড়েছে ট্রাম-বাস আটকানোর ঘটনাও।
মূলত তিনটি আইন নিয়েই আপত্তি জানিয়েছেন কৃষকরা। প্রথমত, সংশোধিত অত্যাবশ্যক পণ্য আইন। কৃষকদের ক্ষমতায়ন, ন্যায্য মূল্যের আশ্বাস এবং খামার পরিষেবা চুক্তির আইন, এই দ্বিতীয় আইনটি নিয়েও তীব্র আপত্তি কৃষকদের। তৃতীয় আইনটি হল, বাজার বা মাণ্ডির বাইরেও যে কোনও ব্যবসায়ী বা কর্পোরেট সংস্থার কাছে কৃষকদের ফল বিক্রি করার অধিকার। সরকারের তরফে এ নিয়ে মৌখিক আশ্বাস দেওয়া হলেও, আইন প্রত্যাহারের দাবিতেই অনড় কৃষকরা। তা নিয়ে দফায় দফায় কেন্দ্রের সঙ্গে বৈঠকও হয়েছে কৃষকদের প্রতিনিধি দলের। কিন্তু আইন সংশোধনে রাজি হলেও, তা প্রত্যাহারে সম্মত হয়নি সরকার। এ ব্যাপারে সকলের সমর্থন পেতেই ভারত বন্‌ধের ডাক দিয়েছেন তাঁরা।
এদিন বন্‌ধের সমর্থনে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বেসরকারি সংস্থাগুলির দফতর বন্ধ থাকছে। কৃষি বিল প্রত্যাহারের দাবিতে এবং বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গণঅবস্থানের আয়োজন হয়েছে লেকটাউন মোড়ের সামনে। দুপুর সাডে় ১২টা নাগাদ সেখানে দেখা যাবে বিধায়ক সুজিত বসুকে। বিধাননগরের ১১৬ নম্বর বিধানসভা ওয়ার্ডের তৃণমূল-কংগ্রেসের তরফে এই কর্মসূচি রাখা হয়েছে। যদিও নীতির পরিপন্থী বলে সরাসরি বন্‌ধকে সমর্থন করেনি তৃণমূল। তবে কৃষকদের আন্দোলনকে সম্পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরাসরি বন্‌ধের সমর্থনে এগিয়ে এসেছেন বাম-কংগ্রেস।
অপরদিকে উত্তরকন্যা অভিযানে দলীয় কর্মীর মৃত্যুর প্রতিবাদে ডাকা বনধ সফল করতে শিলিগুড়ি শহরে রীতিমতো তাণ্ডব চালাল বিজেপি কর্মীরা৷ বেলা বাড়তেই বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা শিলিগুড়ির বিভিন্ন রাস্তায় বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু করে। শহরের ব্যস্ততম রাস্তা এয়ারভিউ মোড়ে ব্যারিকেড করে দেওয়া হয়। অচল করে দেওয়া হয় যান চলাচল। বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা মুখ্যমন্ত্রীর পোষ্টার ছেঁড়ার পাশাপাশি রাজ্যের উন্নয়নমূলক সংস্কারের বিভিন্ন হোর্ডিং-এ আগুন লাগিয়ে দেয় হিলকার্ট রোডে, যার ফলে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় শহরে। বলাই বাহুল্য সাধারণ মানুষদের যথেষ্ট হয়রানির শিকার হতে হয়।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s