ভ্যাকসিন কী আদৌ নিরাপদ? উত্তর পেতে প্রয়োজন যথেষ্ট সরকারি সচেতনতার প্রচার

আসন্ন করোনা ভ্যাকসিনের টিকাকরণ নিয়ে কিছু প্রশ্ন উঠে আসছে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের করা সমীক্ষা থেকে। প্রশ্ন উঠছে, এই মুহূর্তে কোভিড ভ্যাকসিন নিয়ে যে উন্মাদনা রয়েছে সকলের মধ্যে তা পরবর্তীতে আদৌ থাকবে তো? ভ্যাকসিন হেজিটেন্সি নিয়ে চিরকালই লড়তে হয় ‘হু’ থেকে শুরু করে বিভিন্ন দেশকে। ভারতের পোলিও ভ্যাকসিন টিকাকরণ কর্মসূচি তার জ্বলন্ত উদাহরণ। পোলিওর মত মারাত্মক রোগ নিরাময়েও মানুষের এত অনীহা, যে সরকারের পক্ষ থেকে জনসচেতনতামূলক প্রচার করার পরেও মানুষ নির্বিকারভাবে টিকা না নিতেই আগ্রহী বেশি। বহুদিনের বহু প্রচেষ্টার ফলে একটু আশার আলো দেখা গেছে বিগত কয়েক বছরে।
করোনা ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রেও এমনটা হবে না তো? উল্লেখ্য, ৫২টি করোনা ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলছে দুনিয়া জুড়ে। তার আগের পর্যায়ে রয়েছে আরও ১৬২টি। গাভি দ্য ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স-এর মতো প্রতিষ্ঠান মনে করছে, অনলাইনের ভুয়ো তথ্যই এই মুহূর্তে বড় বিপদ। টিকা নিরাপদ কি না সেই বিষয়টিই ভাবাচ্ছে বেশিরভাগ মানুষকে। টিকা আবিষ্কারের কাজ সম্পন্ন করতে যেখানে গড়ে অন্তত ১০-১৫ বছর লেগে যায়, সেখানে ১১ মাসেই টিকা দেওয়ার কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। যদিও নিরাপদ তকমা পেয়েছে বেশ কয়েকটি টিকা। তবু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার খবর চিন্তায় ফেলেছে বহু মানুষকেই। মাসকয়েক আগে ব্রিটেনে অক্সফোর্ডের টিকার ট্রায়ালে এক অংশগ্রহণকারীর স্নায়বিক সমস্যা ধরা পড়ে। আবার আমেরিকার নিয়ামক সংস্থা এফডিএ জানিয়েছে, ফাইজারের ট্রায়ালে টিকা নেওয়া চার স্বেচ্ছাসেবক বেল’স পলসি অর্থাৎ ফেসিয়াল প্যারালিসিসে আক্রান্ত হয়েছেন। তবুও বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কিত হতে নিষেধ করছেন।
বায়োএথিক্স নিয়ে কাজ করছেন চিকিৎসক অনন্ত ভান। তিনি মনে করেন, একদল লোক যাঁরা টিকাকরণের বিরুদ্ধে, তাঁদের বাদ রেখেও বলা যায়, টিকার নিরাপত্তা, কার্যকারিতা নিয়ে মানুষের মনে নানা ধরনের প্রশ্ন তৈরি হতেই পারে। সেই ধোঁয়াশা স্পষ্ট করার দায়িত্ব সরকারের, টিকা নির্মাতা সংস্থার। তাঁর মতে সরকারের উচিত ছিল ইতিমধ্যেই সচেতনতামূলক প্রচার শুরু করা। আবার ইদানীং অনেকেরই ধারণা, করোনা দুর্বল হয়ে পড়েছে। তৈরী হয়ে গেছে হার্ড ইমিউনিটি। এ বিষয়ে উল্লেখ্য, কিছু দিন আগে ফাইজারের প্রাক্তন ভাইস প্রেসিডেন্ট মন্তব্য করেন, ব্রিটেনে মহামারী শেষ হয়ে গেছে, কোভিড টিকার আর দরকার নেই। পরে সেই বক্তব্যকে ভুয়ো বলা হলেও ততদিনে সোশ্যাল মিডিয়া ছেয়ে ফেলেছে সেই ভুয়ো তথ্য। কাজেই তার জন্য লোকজন খরচ করতে চাইবেন কি না, তা নিয়েও রয়েছে বড়সড় আশঙ্কা। দেশের প্রথম সারির প্রতিষেধক বিশেষজ্ঞ, সিএমসি ভেলোরের চিকিৎসক গগনদীপ কাং বলছেন, যে কোনও টিকার ক্ষেত্রেই বিরল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াকে ধর্তব্যের মধ্যে রাখা হয় না। কারণ দশ হাজারে একজনের ক্ষেত্রে কোনও ঘটনা ঘটলে সেই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সরাসরি প্রভাব প্রতিষ্ঠা করা উচিত নয়। তিনি জানান, নিয়ম মেনে ট্রায়ালের অংশগ্রহণকারী, টিকা নেওয়া ব্যক্তি, সকলের উপরই নজর রাখা হবে। মোহালির ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চের অধ্যাপক ইন্দ্রনীল বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য, ভ্যাকসিন বাস্তবে কতটা কার্যকরী এবং কত দিন কার্যকরী হবে, তার উত্তর পাওয়ার মতো সময় পাওয়া যায়নি। জরুরি ভিত্তিতে টিকাকরণ আসলে বৃহত্তর ট্রায়াল ধরা যেতে পারে বলে অভিমত তাঁর।
ন্যাশনাল এক্সপার্ট গ্ৰুপ অন ভ্যাকসিন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ফর কোভিড (NEGVAC) আশঙ্কা করছে, যদিও ফ্রন্টলাইন ওয়ার্কার বা কোমরবিডিটি রোগীরাই প্রথম টিকা পাবেন বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে, কিন্তু কোন রাজ্যে কোন কোন ব্যক্তি ঠিক এই তালিকার আওতায় পড়েন, তা কি আদৌ কোনও রাজ্য সঠিকভাবে স্থির করতে পারবে? তাছাড়াও এই ভ্যাকসিনের দুটি ডোজ সময়মতো নেওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ। সেটাও সঠিক নিয়ম মেনে সঠিক সময়ে একই ডোজ দুবার নেওয়া বাধ্যতামূলকভাবে নির্দিষ্ট করতে হবে সরকারি তরফে। যদিও এ বিষয়ে অভিজ্ঞ একটি স্মল গ্ৰুপ রয়েছে ন্যাশনাল টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজারি গ্ৰুপ অফ ইম্যুনাইজেশন (NTAGI)।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s