দলকে একজোট হয়ে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী

উত্তরবঙ্গ সফরে মঙ্গলবার জলপাইগুড়ির সভা থেকে দলকে একজোট হয়ে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সঙ্গে ওই মঞ্চ থেকেই বিজেপি তথা নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন মমতা। পাশাপাশি দলের অভ্যন্তরীন কোন্দলের উদ্দেশ্যে তাঁর হুঁশিয়ারি, ‘‘১০ বছর পার্টিতে থেকে ভোটের আগে বোঝাপড়া করব, এটা আমি বরদাস্ত করব না।’’ তাঁর কথায়, ‘‘একুশে এমন পরীক্ষা দেবেন, যাতে বিজেপি কোনও দিন পরীক্ষায় বসতে না পারে।’’
এদিন জলপাইগুড়িতে জনসভা থেকে বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানা করে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। গেরুয়া শিবিরকে কটাক্ষ করে বলেন, ওরা বাংলায় এক নতুন ধর্ম এনেছে ঘৃণ্য ধর্ম। কুত্‍সার ধর্ম। অভিযোগ, রামকৃষ্ণ, বিবেকানন্দের কথা বলে বিজেপি কেবল হিংসা ছড়াচ্ছে। বিজেপিকে সবচেয়ে বড় ডাকাত বলেও আখ্যা দেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। বিজেপির বিরুদ্ধে কটাক্ষ করে এনআরসি বা এনপিআর ইস্যু থেকে শুরু করে রবীন্দ্রনাথের রচিত জাতীয় সঙ্গীত সংশোধনের জন্য বিজেপি নেতা সুব্রহ্মণ্যম স্বামীর প্রস্তাবের বিরুদ্ধেও সরব হন তিনি। নেত্রীর অভিযোগ, মানুষে মানুষে বিভাজনের কাজ করছে বিজেপি। ভোটের সময় এলে বিজেপি গোর্খাল্যান্ডের কথা বলে। পাহাড়ের রাজনৈতিক সমাধান আমরাই করব বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতার অভিযোগ, বাংলায় বাইরে থেকে গুন্ডা নিয়ে গন্ডগোল করা হচ্ছে। নরেন্দ্র মোদী সরকারের আমলে বেকারত্ব বেড়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। উত্তরবঙ্গে নিজস্ব ভাষা ও সাহিত্য উন্নয়নে তৃণমূল যে কাজ করেছে বিশেষ করে রাজবংশী ভাষার স্বীকৃতি স্বরূপ তারও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। ৩৭০টি চা বাগানের শ্রমিকেরা ‘চা-সুন্দরী’ প্রকল্পের আওতায় পাকা বাড়ি পাবেন বলেও জানান তিনি।
২০২১ সালের নির্বাচনে বিজেপির পরাজয় নিশ্চিত করতে উত্তরবঙ্গের টিএমসি নেতাদের একজোট হয়ে কাজ করতে বলেন মমতা। তিন দিনের উত্তরবঙ্গ সফরে সোমবার জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার জেলার নেতাদের সঙ্গে কোর-কমিটির বৈঠকও করেন দলনেত্রী। মঙ্গলবার জলপাইগুড়ির সভা সেরে হেলকপ্টারে কোচবিহার বিমানবন্দরে নামেন মমতা। বিমানবন্দরেই জেলার শীর্ষনেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। কোচবিহারে এসে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব মেটাতে কড়া বার্তা দিলেন তৃণমূল নেত্রী। সমন্বয় বাড়াতে সপ্তাহে একটি করে বৈঠক করার নির্দেশ দিয়েছেন  মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এছাড়াও কোচবিহারে মহারাজা জিতেন্দ্রনারায়ণ মেডিকেল কলেজের নতুন ক্যাম্পাস ও জলপাইগুড়ি জেলার ফুলবাড়ি এবং আলিপুরদুয়ার জেলার জয়গাঁওতে অগ্নি নির্বাপণ কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন এদিন মুখ্যমন্ত্রী। তারপর তিনি কোচবিহারের শিবযজ্ঞ মন্দির এবং মদনমোহন মন্দিরে আরাধনা করেন।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s