সাধনমার্গ থেকে জ্ঞানমার্গে হেঁটেছে ভারত বিশ্বভারতীর মতো বিশ্ববিদ্যালয়গুলির হাত ধরেই -প্রধানমন্ত্রী

বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপনে ভার্চুয়াল ভাষণ দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ভাষণের শুরুতেই রবীন্দ্রনাথের বাণী শোনা গেল তাঁর মুখে। বললেন, বিশ্বভারতীর দেখানো পথে, প্রকৃতির থেকে শিক্ষা নিয়েই আজ ভারত বিশ্বমঞ্চে নিজেকে তুলে ধরতে চাইছে।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় বলেন, গুরুদেবের চিন্তাদর্শন, স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে দেশকে প্রেরণা দেওয়ার জায়গা বিশ্বভারতী। বহু প্রথিতযশা বিজ্ঞানী, অর্থনীতিবিদ, সাহিত্যিক, শিল্পীর জন্ম দিয়েছে বিশ্বভারতী। করোনার কারণে এই বছরে পৌষমেলা না হওয়া নিয়ে এদিন আক্ষেপ করেন তিনি বলেন, “এই নিয়ে ১০০ বছরে তৃতীয় বার এই মেলা হল না, ছোট শিল্পীরা, কারিগররা বিপদে পড়লেন। তিনি সেখানকার ছাত্রছাত্রীদের প্রতি আহ্বান জানালেন ছোট কারিগরদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য, যাতে সেই সব কারিগরের কাজ বিশ্ববাজারে তুলে ধরা যায়। তাঁর কথায়, “শান্তিনিকেতন হোক বা শ্রীনিকেতন গুরুদেবের স্বপ্ন এগিয়ে নিয়ে চলেছে শতবর্ষ ধরে। গুরুদেবের গ্রামোদয় আজ গোটা বিশ্বে চর্চিত। এখানে যে যোগ প্রকৃতির সঙ্গে মিলেমিশে শিক্ষার চিন্তা বিশ্বভারতীতেই তা প্রথম দেখা গিয়েছে। সেই বার্তাই বিশ্বকে আজ পৌঁছে দিচ্ছে আমাদের দেশ। গোটা বিশ্বে ভারত একমাত্র দেশ যারা প্যারিস চুক্তি মেনে কার্বন নিঃসারণ মাত্রা কমাতে পারছে।” তিনি আরও বলেন, ভারতের স্বাতন্ত্র্য ও বিশ্বভারতী যেন একে অপরের পরিপূরক। কথা প্রসঙ্গে তিনি ভক্তি আন্দোলনকে স্বাধীনতা আন্দোলনের দিগ্দর্শক হিসেবে তুলে ধরেন। এই সাধনমার্গ থেকে জ্ঞানমার্গে হেঁটেছে ভারত বিশ্বভারতীর মতো বিশ্ববিদ্যালয়গুলির হাত ধরেই বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, কী ভাবে বিশ্বভারতী, বেনারস হিন্দু বিশ্বাবিদ্যালয়, আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়, গুজরাত বিদ্য়াপীঠ, আন্নামালাই বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বিশ্ববিদ্যালয়গুলি একই কালখণ্ডে গড়ে উঠে, ভারতের স্বাধীনতার স্বপ্নকে আরও এগিয়ে দিয়েছে। তাঁর কথায় ভক্তি আন্দোলন থেকে এ যেন জ্ঞান আন্দোলনের দিকে যাত্রা।
গুজরাতের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের নিবিড় যোগের কথাও বললেন প্রধানমন্ত্রী। বললেন সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের গুজরাত যোগের কথা। গুজরাতের সংস্কৃতি রবীন্দ্রনাথের ভাল লাগত। আমদাবাদে থাকাকালীনই দু’টি কাব্যগ্রন্থ লিখেছিলেন। ‘ক্ষুধিত পাষাণ’-এর কিছু অংশও সেখানেই লিখেছিলেন বললেন তিনি।


এদিন সকালে বিশ্বভারতীর শতবর্ষ উপলক্ষ্যে ট্যুইট করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি ট্যুইটে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান উদ্ধৃত করে লিখেছেন, ‘‘বিশ্বসাথে যোগে যেথায় বিহারো, সেইখানে যোগ তোমার সাথে আমারও’’। তিনি লিখেছেন, ‘১০০ বছর হল বিশ্বভারতীর। আদর্শ মানুষ তৈরির পথে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সবচেয়ে বড় এক গবেষণার ফসল এই শিক্ষার মন্দির। আমাদের উচিত এই মহান দার্শনিকের চিন্তা ও দর্শনকে সংরক্ষণ করা’।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s