আইসিএআই এবং ইআইআরসি ২ দিন ব্যাপী ৪৫তম রিজিওনাল কনফারেন্সের শুভ সূচনা করল

ইনস্টিটিউট অফ চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অফ ইন্ডিয়া এবং ইস্টার্ন ইন্ডিয়া রিজিওনাল কাউন্সিল তাদের ২ দিন ব্যাপী ৪৫তম রিজিওনাল কনফারেন্সের শুভ সূচনা করল আজ ১৯ জানুয়ারি কলকাতার আইটিসি রয়াল বেঙ্গল-এ। নিউ নরমাল-এ চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্টরা কিভাবে নিজেদের মানিয়ে নিয়ে চলবে, তাই নিয়েই মূলত এই কনফারেন্স সংঘটিত হবে ১৯ এবং ২০ জানুয়ারি“চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্টস ক্রুসেডিং দ্য নিউ নরম্যাল”-এই থিমের ওপর ভিত্তি করেই সারা ভারত থেকে ২৫০০ রও অধিক চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট ভার্চুয়ালি এই আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করবেন।  বর্তমান সময়ের প্রেক্ষিতে কীভাবে সংস্থার সদস্যরা নিজেদের জ্ঞান, দক্ষতা বাড়াতে সক্ষম হবেন এবং প্রফেশনাল জগতে উন্নতি করতে পারবেন তাই নিয়েই মূলত আলোচনা চলবে।

           অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন রাজ্যের রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। ফার্স্ট লেডি সুদেশ ধনকড় ও ছিলেন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। এছাড়াও ছিলেন আইসিএআই-এর প্রেসিডেন্ট সিএ অতুল কুমার গুপ্তা, ইআইআরসি-এর চেয়ারম্যান সিএ নীতিশ কুমার মোরে, ডিএফ ফিন্যান্স সিএ সঞ্জীব সোনি, প্রাক্তন সিভিল সার্ভেন্ট সিএ সরথ কুমার। এছাড়াও ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন আইসিএআই-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট সিএ নিহার নিরঞ্জন জাম্বুসরিয়া, ইউকো ব্যংক-এর ইডি রোহিত জৈন, জি বিজনেস-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর সিএ অনিল সিঙ্ঘভি, এনএফএল-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর ম্যাডাম নিরু অবরোল, অয়েল ইন্ডিয়ার ডিরেক্টর(ফিন্যান্স) সিএ হরিশ মাধব সহ আরও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা।

          বর্তমান সময়ের নিরিখে দেশের অর্থনীতি এবং কর্মসংস্থান এর দিকে নজর করলে বোঝা যাচ্ছে ক্ষুদ্র, ছোট এবং মাঝারি শিল্পের(এমএসএমই) সংস্থান যথাযথভাবে করতে পারলেই তা দেশের পোক্ত শিরদাঁড়া হয়ে উঠবে। ভারতের রফতানির বাজারের পঞ্চাশ শতাংশই এখন এই এমএসএমই-র দখলে। কাজেই ‘আত্মনির্ভর ভারত’ গড়ে তুলতে হলে এই শাখা ব্যবসার দিগন্ত খুলে দিতে পারে। অতিমারীর সময়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প দেশের অর্থনীতিতে এক বিরাট পরিবর্তন আনতে সক্ষম। এই সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখেই আইসিএআই ১০০টি ফেসিলিয়েশন সেন্টার সহ একটি এমএসএমই মেনরশিপ প্রোগ্রাম সূচনা করেছে যার মাধ্যমে এই শিল্পকে যথাযথভাবে আধুনিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আত্মনির্ভর ভারতের অংশীদার করা যায়। যাতে তারা যে কোনও ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হতে পারে।

             উল্লেখ্য, ইনস্টিটিউট অফ চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট অফ ইন্ডিয়া (আইসিএসআই) একটি স্বনামধন্য আন্তর্জাতিক হিসাবরক্ষণ সংস্থা, যারা শিক্ষা, পেশাদার উন্নতি, উচ্চ পর্যায়ের হিসাবরক্ষণ ব্যবস্থা, যথাযথ নিরীক্ষণ ব্যবস্থা এবং নীতিগত উন্নয়নে যথেষ্ট সুনামের সঙ্গে কাজ করে। ১৭০০ জন চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট সদস্য নিয়ে শুরু হওয়া এই সংস্থার বর্তমান সদস্য সংখ্যা ২.৪৫ লক্ষ ছাড়িয়ে গেছে। মাত্র ২৫৯ পড়ুয়া নিয়ে শুরু হওয়া এই সংস্থার বর্তমান ছাত্রসংখ্যা ৮.৭৩ লাখেরও বেশি। সারা দেশে আইসিএআই-এর ৫টি রিজিওনাল অফিস সহ ১৫০টি শাখা অফিস রয়েছে এবং সারা বিশ্বে যথেষ্ট সুনামের সঙ্গে কাজ করে চলেছে এই সংস্থাটি।

              ২দিনের এই প্রোগ্রামটি দু ভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রথমত মূলত বিভিন্ন বিষয়কে তুলে ধরে সেগুলি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্যানেল ডিস্কাশনের মাধ্যমে আলোচনা করা হবে। মূলত আলোচনা হবে ব্যংক অডিটের ভূমিকা, ব্যাংক অডিটের উন্নয়ন, ট্র্যাডিশনাল থেকে টেকনোলজিক্যালি প্রাকটিসের প্রতি গুরুত্ব আরোপ, জিএসটি: ব্যবসার স্বাচ্ছন্দ বনাম কর আদায়, ভারত: বর্তমান পরিবর্তন, জিএসটি মামলা এবং তৎসংক্রান্ত সমস্যা, ক্যাপিটাল মার্কেট: বর্তমান ট্রেন্ড, ডকুমেন্টেশন এবং অডিট ও অ্যাকাউন্টিং এস্টিমেট, ইন্ডাস্ট্রি@২০২৫-এ সিএ, ফরেনসিক অডিট: সারদা এবং কিংফিশারের কেস স্টাডি, সিএ প্রফেশন@২০২৫, কোড অফ এথিক্স, এলএফএআর: বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতি সম্পর্কে আলোচনা (ডিকোডিং রিসেন্ট চেঞ্জেস), ভবিষ্যতের টালমাটাল পেশা (ফিউচার অফ ইন্সল্ভেন্সি প্রফেশন) বিষয়ে। 

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s