৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হল পশ্চিমবঙ্গ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোশিয়েশনের ৫৬তম বার্ষিক সাধারণ বৈঠক

হাওড়ার ‘দ্য লেক ল্যান্ড কান্ট্রি ক্লাব’-এ ৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়ে গেল পশ্চিমবঙ্গ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোশিয়েশনের ৫৬তম বার্ষিক সাধারণ বৈঠক। এটি রাজ্যের একমাত্র সচল কোল্ড স্টোরেজ সমিতি। রাজ্যের কোল্ড স্টোরেজ সদস্যদের ৯০% ই এই সমিতির সভ্য, কাজেই এই সমিতি রাজ্যের বৃহৎ এবং একমাত্র অনুমোদিত সংস্থা।
অ্যাসোশিয়েশনের বার্ষিক সাধারণ সভার শুভ সূচনা করেন প্রধান অতিথি তপন দাশগুপ্ত রাজ্য কৃষি বিপণন সংস্থার ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী, ওয়েস্ট বেঙ্গল কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোশিয়েশনের সভাপতি তরুণ কান্তি ঘোষ, সহ সভাপতি রাজেশ কুমার বনসল, প্রাক্তন সভাপতি পতিত পবন দে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোশিয়েশনের সভাপতি জানান, রাজ্যের আলু চাষের ক্ষেত্র দিন দিন বেড়ে চলেছে, যার জন্য কোল্ড স্টোরেজগুলো উৎপাদন এবং বিপণনের ক্ষেত্রে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করছে। কিন্তু মজুত আলুর সঠিক তথ্যের অভাবে বছরের শেষে প্রচুর আলু নষ্ট হয়। তিনি সমিতির দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের কাছে আবেদন করেন আলুর উৎপাদন, সংরক্ষণ এবং খরচের মধ্যে যেন সামঞ্জস্য রেখে তথ্য নথিবদ্ধ করা হয় সেদিকে নজর দিতে। তিনি উক্ত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন তথ্য রেখে উদাহরণ দেন কীভাবে আরও উন্নতভাবে নথিবদ্ধ করা যায় কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থাপনা।
এছাড়াও আলুর সংরক্ষণের জন্য কৃষকদের সরকারি তরফে ট্রেনিং দেওয়ার গুরুত্বে জোর দেন তিনি। ৫৫ গ্রাম ওজনের লেনো ব্যাগে কিভাবে আলু ঝাড়াই-বাছাই করে, উন্নত মানের প্যাকিং করে কোল্ড স্টোরেজে সংরক্ষণ করা যায়, তার জন্য সঠিক প্রশিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে বলে জানান সংস্থার সভাপতি। তার পাশাপাশি উন্নতমানের বীজ এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষতার মাধ্যমে রফতানি করার মত মানের আলু উৎপাদন সম্ভব বলে জানান তিনি।
বিভিন্ন জায়গায় সংরক্ষণের খরচ এবং কোল্ড স্টোরেজের খরচ বৃদ্ধির ফলে ১৮০/- প্রতি কুইন্টালের পরিবর্তে তা বৃদ্ধির আবেদন রাখা হয় এই সভায়। উল্লেখ্য দেশের অন্যান্য রাজ্যে কোল্ড স্টোরেজের ভাড়া ২২০ থেকে ২৫০ টাকা প্রতি কুইন্টাল। এছাড়াও প্রস্তাব রাখা হয়, ১০০% স্টোরেজ ক্যাপাসিটির জায়গায় যেন ৯০% স্টোরেজ ক্যাপাসিটির হিসেব রাখা হয়, তাহলেই মূলত একটি স্টোরের ১০০% জায়গার সঠিক হিসেব রাখা সম্ভব। কারণ ঠাসা জায়গার (১০০%) ব্যবহার খুব কমই হয়। তিনি বিভিন্ন জায়গার পঞ্চায়েত ট্যাক্স এবং ট্রেড লাইসেন্স ফি-এর হিসেব প্রকাশ করারও আবেদন রাখেন কর্তৃপক্ষর কাছে।
১৯৬৬ সালের কোল্ড স্টোরেজ আইন অনুযায়ী প্রস্তাব রাখা হয়
১) যাঁরা কোল্ড স্টোরেজ ভাড়া নেবেন, তাঁরা যেন সঠিক মানের আলু মজুত করেন।
২) সংরক্ষণ পর্ব শেষে অতিরিক্ত আলুর সঠিক নিষ্পত্তি করার পদ্ধতি যেন সরলীকরণ করা হয়।
৩) কোল্ড স্টোরেজের লাইসেন্স যেন পাঁচ বছর বাড়ানো হয়।
তিনি আরও জানান, রাজ্যে আলু সংরক্ষণের জন্য বর্তমানে স্টোর ইউনিটগুলো যে জায়গা রয়েছে তা পর্যাপ্ত, তবে অন্তত পাঁচ বছরের জন্য ঝাড়খন্ড, বিহারের মত রাজ্যের যা স্টোরেজ ক্যাপাসিটি রয়েছে তার মত এই জায়গা ধরে রাখা যথেষ্ট প্রয়োজন। এছাড়াও ব্যবসার অনুকূল পরিবেশ এবং রাজ্যের আইন-কানুনের সরলীকরণ প্রয়োজন আলু ব্যবসায় আরও গতি আনার জন্য এমনটাই মনে করেন তিনি।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s