top of page

খবর 

আসন্ন রামনবমীর আগে ওয়াকফ বিল সংশোধনীর বিরোধিতায় প্রতিবাদ, বিক্ষোভ 

কলকাতা, ৪ এপ্রিল, ২০২৫: সংসদে ওয়াকফ সংশোধনী বিল পাস হওয়ার পর পরই দেশের নানা প্রান্তে শুরু হয়ে গেল বিক্ষোভ, প্রতিবাদ, আন্দোলন। শুক্রবার (৪ এপ্রিল, ২০২৫) কলকাতা, চেন্নাই ও আমদাবাদে এই ইস্যুতে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়। যুযুধান বিভিন্ন রাজনৈতিক শিবিরের ধারণা, মেরুকরণের এই রাজনীতি বিধানসভা ভোট যত এগিয়ে আসবে, ততই গভীরতর হবে। শুক্রবারের নমাজ পড়ার পরই ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা এই বিক্ষোভে সামিল হন। সামনেই রামনবমী, চলছে তার জোর প্রস্তুতি, তার ঠিক আগে এই বিক্ষোভ, প্রতিবাদ যথেষ্ট অর্থবহ তাতে কোনও সন্দেহ নেই।
                 এদিন কলকাতায় প্রতিবাদের বহর ছিল যথেষ্ট বড়। অসংখ্য মানুষ হাতে জাতীয় পতাকা নিয়ে এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে সামিল হন। পার্ক সার্কাসে এদিন প্রতিবাদীরা এক দিকে যেমন সমস্বরে নরেন্দ্র মোদী তথা কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকার বিরুদ্ধে সরব হয়েছে, তেমনই প্রশংসা করেছে বাংলার শাসকদল তৃণমূলের ভূমিকার। প্রতিবাদ-বিক্ষোভ আয়োজনে ‘প্রশাসনিক সহযোগিতা’ করায় সেই জনতা ধন্যবাদ জানিয়েছে রাজ্য সরকারকে, যাকে অনেকেই আসন্ন রামনবমীর ‘আগাম প্রতিষেধক’ হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন। এক প্রবীণ নেতার বক্তব্য, ‘‘হয়তো তৃণমূল দলের সরাসরি নির্দেশে কোনও কর্মসূচি হয়নি। কিন্তু রামনবমীর আগে এমন জমায়েত উত্তেজনা প্রশমনের বদলে বৃদ্ধিতেই সাহায্য করবে।’’সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর দাবি, কলকাতায় এই সঙ্গবদ্ধ জমায়েতের নেপথ্য়ে ছিল 'জয়েন্ট ফোরাম ফর ওয়াকফ প্রোটেকশন' নামে একটি সংগঠন।
                গুজরাটের আমদাবাদেও এদিন ওয়াকফ সংশোধনীর বিরোধিতায় পথে নামেন ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা। যদিও একটি ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, ওয়াকফ সংশোধনীর প্রতিবাদ জানিয়ে যে প্রবীণরা রাস্তায় বসে ছিলেন, তাঁদের জোরজবরদস্তি সেখান থেকে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করে গুজরাট পুলিশ। প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের একই ছবি ধরা পড়েছে দক্ষিণী শহর চেন্নাইয়ে। এই প্রেক্ষাপটে মমতার প্রতিশ্রুতি, কেন্দ্রে যখনই অবিজেপি সরকার গঠিত হবে, এই সংশোধনী প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে।
                কিছুদিন আগে যখন বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর নিপীড়ন এবং ইস্কনের সন্ন্যাসী চিন্ময়কৃষ্ণ দাসকে গ্রেফতারির ঘটনায় বিজেপি কলকাতার রাস্তায় একের পর এক মিছিল করছিল, ঠিক সেই সময়েই ওয়াকফ নিয়ে রানি রাসমণি রোডে সংখ্যালঘু সমাবেশ করেছিল তৃণমূল। যার আয়োজক ছিল তৃণমূলের সংখ্যালঘু সেল। কাজেই বিজেপির হিন্দুত্বের রাজনীতির মোকাবিলায় তৃণমূল যে ওয়াকফকে ‘হাতিয়ার’ করে সংখ্যালঘুদের একজোট করতে চাইছে তা মোটামুটি স্পষ্ট। 
                 এদিকে  শুক্রবার হাওড়ায় দু'টি সংগঠনের রামনবমী মিছিলের অনুমতি দিল হাইকোর্ট। তবে, সেই অনুমতি শর্ত সাপেক্ষে। বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ এদিন বলেন, ‘দুর্গাপুজোয় কোথাও গোলমাল হলে কি দুর্গাপুজো বন্ধ করে দেব?’ হাওড়ায় রামনবমী মিছিলে পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপরেই ভরসা রাখা হয়েছে। বিচারপতির মন্তব্য, ‘কেন্দ্রীয় বাহিনীর অনুমতি দেব না। পুলিশের অবশ্যই ক্ষমতা আছে। কিন্তু সেই ক্ষমতা থাকা আর প্রয়োগের উপর আকাশ-পাতাল পার্থক্য। ২০-২২ সালের পর আরও হিংসা কমেছে। আশা করা হচ্ছে হিংসা আরও কমবে।’ হাইকোর্ট এ দিন জানায়, যে কোনও ধর্মীয় প্রতীক নিয়ে মিছিল করা যাবে। তবে ধাতুর তৈরি কোনও হাতিয়ার নিয়ে মিছিল করা যাবে না। অঞ্জনী পুত্র সংগঠনের মিছিল করতে হবে সকালে। অন্যদিকে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মিছিল হবে বিকেলে। দুই সংগঠনই ৫০০ জনের বেশি লোক নিয়ে মিছিল করতে পারবে না। মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে আইডি কার্ড থাকতে হবে। বিচারপতি জানান, কোনও রাজনৈতিক দলের নেতাদের এই মিছিলে অংশ নিতে দেওয়া যাবে না। 

Top Stories

প্রতিদিনের খবর এবং বিভিন্ন ফিচার ভিত্তিক লেখা, যেখানে খবরের সত্যতা তথা লেখনীর উৎকৃষ্টতা প্রাধান্য পায়। ফিচার ছাড়াও যে কোনও রকম লেখনী শুধুমাত্র উৎকৃষ্টতার নিরিখে গুরুত্ব পাবে এই সাইটে

Thanks for subscribing!

  • Whatsapp
  • Youtube
  • Instagram
  • Facebook
  • Twitter

The Conveyor

bottom of page